Pages

Wednesday, September 18, 2013

প্রশ্নঃ কোন মসজিদে কবর থাকলে সেখানে নামায আদায় করার হুকুম কি?

প্রশ্নঃ কোন মসজিদে কবর থাকলে সেখানে নামায আদায় করার হুকুম কি?


উত্তরঃ কবর সংশ্লিষ্ট মসজিদে নামায আদায় করা দু’ভাগে বিভক্তঃ
প্রথম প্রকারঃ প্রথমে কবর ছিল। পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে এই মসজিদ পরিত্যাগ করা; বরং মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা। যদি না করা হয় তবে মুসলিম শাসকের উপর আবশ্যক হচ্ছে উক্ত মসজিদ ধ্বংস করে ফেলা।
দ্বিতীয় প্রকারঃ প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। পরে সেখানে কোন মৃতকে দাফন করা হয়েছে। তখন ওয়াজিব হচ্ছে, কবর খনন করে মৃত ব্যক্তি বা তার হাড়-হাড্ডি সেখান থেকে উত্তোলন করে, মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা। এই মসজিদে শর্ত সাপেক্ষে ছালাত আদায় করা জায়েয। আর তা হচ্ছে, কবর যেন মসজিদের সম্মুখভাগে না হয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের দিকে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
কেউ প্রশ্ন করতে পারে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর তো মসজিদের মধ্যে? এর জবাব কি?
এর জবাব হচ্ছে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর মৃত্যুর পূর্বেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। একথা সবার জানা যে, তাঁকে মসজিদের মধ্যে দাফন করা হয়নি; বরং মসজিদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা স্থান, তাঁর নিজ গৃহে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ৮৮ হিঃ সনে খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক তার অধিনস্থ মদীনার আমীর ওমর বিন আবদুল আযীযকে পত্র মারফত নির্দেশ প্রদান করেন, মসজিদে নববী ভেঙ্গে পূণঃনির্মাণ করার সময় যেন উম্মুল মু’মেনীন তথা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর স্ত্রীদের গৃহগুলোকে মসজিদের আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। তখন ওমর বিন আবদুল আযীয মদীনার নেতৃস্থানীয় লোক এবং ফিক্বাহবিদদেরকে একত্রিত করে তাঁদের সামনে খলীফার পত্র পড়ে শোনান। বিষয়টি তাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হয়। তাঁরা বললেন, কবর ও গৃহগুলোকে বর্তমান অবস্থাতেই রেখে দেয়া উচিত। উপদেশ গ্রহণ করার জন্য এটাই সর্বাধিক সঠিক উপায়। বর্ণিত আছে যে, সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব আয়েশা (রাঃ)এর গৃহ তথা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর শরীফকে মসজিদের মধ্যে শামিল করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে বাধা প্রদান করেন। কেননা তিনি আশংকা করছিলেন যে, এই কবরকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হতে পারে। যা হাদীছের ভাষায় নিষিদ্ধ। বিষয়টি ওমর লিখে পাঠালেন খলীফা ওয়ালিদের কাছে। কিন্তু ওয়ালিদ তার নির্দেশই বাস্তবায়ন করার আদেশে অটল রইলেন। ফলে বাধ্য হয়ে ওমর খলীফার নির্দেশ মোতাবেক কবরকে মসজিদের মধ্যে শামিল করে ফেললেন।
অতএব আপনি দেখলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর মূলতঃ মসজিদের মধ্যে দেয়া হয়নি। আর কবরের উপর মসজিদও বানানো হয়নি। সুতরাং যারা মসজিদে দাফন করা বা কবরের উপর মসজিদ তৈরীর বৈধতার পক্ষে কথা বলে তাদের কোন দলীল নেই। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তিনি বলেন:
لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
    “ইহুদী ও খৃষ্টানদের প্রতি আল্লাহর লা’নত (অভিসম্পাত), তারা তাদের নবীদের কবর সমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।”
রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমূর্ষু অবস্থায় ইহুদী খৃষ্টানদের কার্যকলাপ থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত বাণী পেশ করেন। উম্মে সালামা (রাঃ) হাবশায় হিজরত করে খৃষ্টানদের গীর্জা বা উপাসনালয়ে স্থাপিত বহু মূর্তী দেখেছিলেন। বিষয়টি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন:
أُولَئِكَ قَوْمٌ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الْعَبْدُ الصَّالِحُ أَوِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ
    “ওরা এমন জাতি, তাদের মধ্যে কোন নেক বান্দা বা সৎলোক মৃত্যু বরণ করলে তার কবরের উপর তারা মসজিদ তৈরী করত এবং ঐ মূর্তিগুলো স্থাপন করত। ওরা আল্লাহর কাছে সৃষ্টির মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট।”
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন,
    “সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক হচ্ছে তারা, যাদের জীবদ্দশায় ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। আর যারা কবর সমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।” ইমাম আহমাদ উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেন।
অতএব মু’মিন কখনই ইহুদী-খৃষ্টানদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সন্তুষ্ট হবে না এবং সৃষ্টি কুলের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হবে না।
- আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন (রাহ.)

মুনাফিকগণ আছরের নামাজ দেরীতে আদায় করে

মুনাফিকগণ আছরের নামাজ দেরীতে আদায় করে

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ওই হচ্ছে মুনাফিকের সালাত যে বসে বসে সূর্য কমলা রং ধারণ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এবং তা শয়তানের (সিজদার মুশরিক) দুই শিংয়ের মাঝামাঝি এলে সে গিয়ে দ্রুত গতিতে চার রাকাত সালাত আদায় করে। যার মধ্যে সে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে থাকে।”

- মুসলিম
ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা মুনাফিক এবং মুমিনের নামাজের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা হয়েছে। মুনাফিকগণ সময় মতো নামাজ পড়ে না। রুকু সিজদা ঠিকমতো আদায় করে না। তার অন্তরও আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট থাকে না। সাধারণভাবে সব নামাজই গুরুত্বপূর্ণ। তন্মধ্যে ফরজ ও আসরের নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ আসরের সময় সাধারণত: কাজ করাবার খেলা ধূলা ও হাট বাজার ক্রয় বিক্রয়ের সময়। এ সময় মানুষ উপরোক্ত কাজে ব্যস্ত থাকে এবং রাত হবার পূর্বেই কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরতে চায়। এ সময় মু’মিনরে অন্তর যদি নামাজ সম্পর্কে সতর্ক না থাকে তবে আসরের নামাজ কাজা হয়ে যেতে পারে।
ফজরের নামাজ এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এ সময় নিদ্রা ও আয়েশের সময় এ কথা সকলেরই জানা আছে যে ভোরের সময়ের ঘুম অত্যন্ত গভীর ও আরমদায়ক। মানুষের অন্তরে যদি ঈমান সক্রিয় ও সজাগ না থাকে তাহলে এ সময়ের প্রিয় ঘুম ত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে পারে না।

 Source: http://raheamol.com

বাংলা ইসলামী নাটক - নামাজ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্টা, জান্নাতের সিড়ি।

Tuesday, September 17, 2013

তাহাজ্জুতের নামাজ- আবশ্যিক থেকে ঐচ্ছিক।

তাহাজ্জুতের নামাজ- আবশ্যিক থেকে ঐচ্ছিক। 

 

তাহাজ্জুদ (Tahajjud) রাতের নামাজ (Salatul Layl)। অন্যান্য (ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশা) নামাজের মত এ নামাজের কোন রা'কা সুনির্দিষ্ট নেই, নেই কোন সর্বোচ্চ লিমিট। It would be fulfilled even if one prayed just one rak`ah of  after `Isha'; however, it is traditionally prayed with at least two rak'at which is known as shif'a followed by witr as this is what Muhammad did. 

তবে এ বিষয়ে বুখারীর এই হাদিসটি অনুসরণ করা যেতে পারে- "Salatul Layl is offered as two rak'at followed by two rak'at and (so on) and if anyone is afraid of the approaching dawn (Fajr prayer) he should pray one rak'at and this will be a Witr for all the rak'at which he has prayed before." - বুখারী, ৫৩৯।

যাইহোক, তাহাজ্জুদ এশার নামাজের পর- রাতের প্রথম ভাগে, মধ্যভাগে বা শেষ রাতে পড়া হয়। এ নামাজ এখন আর ফরজ বা আবশ্যিক নয়।

কোরআন অবতরণের প্রথম দিকে এই আয়াত দ্বারা তাহাজ্জুতের নামাজ ফরজ করা হয়েছিল- "হে বস্ত্রাবৃত, রাত্রিতে দন্ডায়মান হও কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছূ কম অথবা তদপেক্ষা বেশী এবং কোরআন আবৃত্তি কর সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে তোমার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। তুমি তোমার পালনকর্তার নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হও।" -(৭৫:১-৮)

উপরের আয়াতসমূহে দেখা যাচ্ছে তাহাজ্জুত রাত্রির অধিকাংশ সময় ধরে পড়ার নির্দেশ রয়েছে। মুহম্মদ (Muhammad) ও তার শিষ্যদের সকলেই তা পালন করতে লাগলেন। ফলে অতি অল্পসয়য়েই তাদের পদযুগল ফুলে গেল। তাছাড়া তখনকার যুগে ঘড়ির প্রচলন না থাকায় কতটা সময় ধরে নামাজ আদায় করা হয়েছে এ সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা থাকত না। ফলে প্রায় সারা রাত্রিই তারা নামাজে অতিবাহিত করে ফেলতেন। তাদের এই কষ্ট ও শ্রম আল্লাহর অগোচরে ছিল না। কিন্তু তাঁর জ্ঞানে পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল যে, এই পরিশ্রম ও মেহনতী এবাদত ক্ষণস্থায়ী হবে, আর যাতে এর কারণে তারা পরিশ্রম ও মেহনতে অভ্যস্ত হয়ে যান। 

রাতের এই পরিশ্রম দেখে পৌত্তলিক কুরাইশগণ মুসলমানদেরকে বিদ্রুপ করতে লাগল। তারা বলল- ‘তোমাদের প্রতি কোরআন তো নয়, সাক্ষাৎ বিপদ নাযিল হয়েছে। দিনেও শান্তি নেই, রাতেও আরাম নেই।’
আর দারুণ নাদওয়ার সদস্য এবং একজন বিশিষ্ট কুরাইশ ব্যবসায়ী নাজার ইবনে হারেছ (Nazar ibn Harith ) অদ্ভূত এক কাজ করে বসলেন। তিনি পারস্য থেকে এক সুন্দরী বাঁদী ক্রয় করে এনে তাকে কোরআন শ্রবণ এবং ইসলাম থেকে মানুষকে ফেরানোর কাজে নিয়োগ করলেন। তিনি লোকদেরকে ডেকে ডেকে বলতে লাগলেন, ‘মুহম্মদ তোমাদেরকে কোরআন শুনিয়ে নামাজ কায়েম করতে, রোজা রাখতে এবং ধর্মের জন্যে প্রাণ বিসর্জনের কথা বলেন। এতে কষ্টই কষ্ট। এস, এই সুন্দরী নারীর কন্ঠে গান শুন ও উল্লাস কর।’
তখন এই আয়াত নাযিল হল- "তোমাকে ক্লেশ দেবার জন্যে আমি কোরআন নাযিল করিনি। কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্যে, যারা ভয় করে।" -(২০:২-৩) 

অবশেষে একবৎসর পর যখন আল্লাহর অভীষ্ট ইচ্ছে পূর্ণ হল, তখন এই আয়াত দ্বারা নামাজের দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেয়া হল। "তোমার পালনকর্তা জানেন, তুমি এবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হও রাত্রির প্রায় দুই তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং তোমার সঙ্গীদের একটি দলও দন্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিবা ও রাত্রির পরিমাপ করেন। তিনি জানেন তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হয়েছেন। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর।
তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ্য হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশ-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। 
তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।" -(৭৫:২০)

এরপর মেরাজের মাধ্যমে মুহম্মদকে সরাসরি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এর বিধান দেয়াতে আটোমেটিক তাহাজ্জুতের নামাজ আর আবশ্যিক রইল না। তবে আমাদের নবী মুহম্মদ নিয়মিতই এ নামাজ পড়তেন এবং সাহাবীদেরও পড়তে উৎসাহ দিতেন। কারণ এ নামাজের ফজিলত অনেক,- has many rewards and benefits, and a way to purify the soul, enabling it to approach the Realm of God.
কথিত আছে ইয়াকু্বের পুত্ররা তাদের অতীত কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হয়ে অবনত মস্তকে পিতাকে বলেছিল, ‘হে আমাদের পিতা! নিশ্চয়ই আমরা অপরাধী। আমাদের পাপমুক্তির জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।’
উত্তরে ইয়াকুব বলেছিলেন, ‘...আমি অবশ্যই আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। তিনি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’

সন্তানদের ক্ষমার জন্যে ইয়াকুব তৎক্ষণাৎ দোয়া করার পরিবর্তে দোয়া করার ওয়াদা করেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ওয়াদা করেননি এই কারণে যে, তিনি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে শেষরাত্রে দোয়া করতে চেয়েছিলেন। কেননা তিনি জানতেন ঐ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আল্লাহ রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে নিকটতম আকাশে ঘোষণা করেন- ‘কেউ আছে কি, যে দোয়া করবে- আমি কবুল করব? কেউ আছে কি, যে ক্ষমা প্রার্থণা করবে- আমি ক্ষমা করব?’

তবে এখন তাহাজ্জুদ সাধারণ মুসলিমদের জন্যে আবশ্যিক না হলেও-এটা ঠিক য়ে, কোরআনে মুহম্মদের উপর সবসময়ই এটা পড়ার নির্দেশ ছিল-
"And during a part of the night, pray Tahajjud beyond what is incumbent on you; maybe your Lord will raise you to a position of great glory." -আল ইসরা, ১৭:৭৯।

উপরের এই আদেশ মুহম্মদের জন্যেই প্রযোজ্য সকল মুসলমানদের জন্যে নয় এটা ঠিক, কিন্তু যেহেতু আদর্শ মুসলিম হিসেবে মুহম্মদকে অনুসরণের নির্দেশ কোরআন প্রদান করেছে তাই ঐ নামাজটি সকল মুসলিমদের জন্যে আবশ্যিক হয়ে যায় বটে (This order, although it was specifically directed to Muhammad, also refers to all Muslims, since Muhammad is to be the perfect example and guide for them in all matters).
Moreover, performing Tahajjud prayers regularly qualifies one as one of the righteous and helps one earn God's bounty and mercy. In praising those who perform the late night prayers, God says what means: "And they who pass the night prostrating themselves before their Lord and standing."—আল ফুরকান, ২৫:৬৪।
নামাজের পূর্বে শরীরকে পবিত্র করা অত্যাবশ্যক। কেননা নামাজের মধ্যে মানুষ নিজেকে মহান আল্লাহর সম্মুখে হাজির করে। সুতরাং পবিত্র সেই সত্ত্বার সম্মুখে নিজেকেও পবিত্র করে নিয়ে হাজির হতে হবে। শরীরকে পবিত্র করা তথা ওজু করার নিয়ম পদ্ধতি অবশ্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এর বিধান চালু হবার হওয়ার পরপরই নাযিল হয়নি। এটা নাযিল হয়েছিল অনেক পরে-মদিনাতে হিযরতের পর। আয়াতটি এই- 
"যখন তোমরা নামাজের জন্যে ওঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিঁটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও- অর্থাৎ স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।" -(৫:৬)

মেরাজ (Mi'raj) এর মাধ্যমে মুহম্মদকে দৈনিক 'পাঁচ ওয়াক্ত' নামাজের বিধান দেয়া হয়েছিল যদিও এই সংখ্যার ব্যাপারে সরাসরি কোরআনে কোন আয়াত নেই। অনেকে নামাজ সম্পর্কিত কোরআনের বিভিন্ন আয়াত বিশ্লেষণ করে অহেতুক পাঁচ ওয়াক্তের ব্যাপারটা প্রমান করার চেষ্টা করেন। তার কোন প্রয়োজন আছে কি? যাহোক প্রসঙ্গে ফিরি, মুহম্মদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে এলে মুসলমানগণ তা পালন করা শুরু করল।এদিকে নামাজের আহকাম ও আরকান সমূহ দেখে কুরাইশগণ অবাকই হল। কারণ এটা ছিল অভূতপূর্ব। তবে সাধারণ আরবরা কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও আবু জেহেল করে বসলেন। তিনি মুহম্মদকে নামাজ পড়তে নিষেধ করলেন এবং হুমকিও দিলেন যে- ‘ভবিষ্যতে নামাজ পড়লে ও সিজদা করলে আমি তোমার ঘাড় পদতলে পিষ্ট করে দেব।’ 

এর জবাবে এই আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়- "সত্যি সত্যি মানুষ সীমালঙ্ঘন করে এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে। তুমি কি তাকে দেখেছ যে নিষেধ করে এক বান্দাকে যখন সে নামাজ পড়ে? তুমি কি দেখেছ যদি সে সৎপথে থাকে অথবা আল্লাহ ভীতি শিক্ষা দেয়? তুমি কি দেখেছ, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? কখনই নয় যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই- মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। অতএব সে তার সভাষদদের আহবান করুক। আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে কখনই নয়, তুমি তার আনুগত্য করবে না। তুমি সিজদা কর ও আমার নৈকট্য অর্জণ কর।" -(৯৬:৬-১৯)

আবু জেহেল অবশ্য জাহান্নামের প্রহরীদেরকে পাত্তা দেননি। তিনি যখন জানতে পারলেন সেখানকার প্রহরী উনিশজন ("..(জাহান্নাম) এর উপর নিয়োজিত রয়েছে উনিশ জন ফেরেস্তা।"-৭৪:৩০) তখন তিনি কুরাইশদেরকে বলেছিলেন-‘মুহম্মদের সহচর তো মাত্র উনিশজন। অতএব, তার সম্পর্কে তোমাদের চিন্তা করার দরকার নেই।’
আর জনৈক নগন্য কুরাইশ বলেছিল, ‘হে কুরাইশ গোত্র! কোন চিন্তা নেই। এই উনিশ জনের জন্যে আমি একাই যথেষ্ট, আমি আমার ডান বাহু দ্বারা দশজনকে এবং বাম বাহু দ্বারা নয়জনকে দূর করে দিয়ে উনিশের কিচ্ছা চুকিয়ে দেব।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাযিল হয়- "আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেস্তাই রেখেছি। আমি অবিশ্বাসীদের পরীক্ষা করার জন্যেই এ সংখ্যা করেছি- যাতে কিতাবীরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনরা সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং অবিশ্বাসীরা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন? এমনিভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছে পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে চালান। তোমার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।" -(৭৪:৩১)

যাইহোক, পরবর্তীতে সাধারণ আরবরাও নামাজরত মুসলিমদের উত্যক্তে অংশগ্রহণ করেছিল। তারা মুহম্মদকে কা'বাতে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছিল। অত:পর কোথাও তাকে বা অন্যকোন মুসলিমকে নামাজে রত অবস্থায় দেখতে পেলে তারা তাদের প্রতি ময়লা ও নোংরা জিনিষপত্র নিক্ষেপ করত, সিজদায় গেলে পিঠের উপর উটের নাড়ি-ভূড়ি চাপিয়ে দিত।

সমাপ্ত।

 Source: http://pytheya.blogspot.com

Wednesday, August 7, 2013

নামাজরত অবস্থায় রিং বেজে উঠলে কী করবেন?

নামাজরত অবস্থায় রিং বেজে উঠলে কী করবেন?
 
নামাজ ভঙ্গের যেসব কারণ আছে তন্মধ্যে একটি হলো আমলে কাসীর।
আমলে কাসীর বলা হয়, নামাজি ব্যক্তির এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে যাওয়া যা অন্য কেউ দেখলে মনে করবে সে নামাজে নেই। আর নামাজি ব্যক্তির প্রতি অন্য ব্যক্তির এরূপ ধারণা তখনই সৃষ্টি হয় যখন সে দু'হাত ব্যবহার করে কোনো কাজ করে। এক হাত নামাজে ব্যস্ত রেখে অন্য হাত দিয়ে কাজ করলে এমন ধারণা মোটেও সৃষ্টি হয় না।

এ কারণেই ফিকাহবিদগণ নামাজের মধ্যে প্রয়োজনে একহাত ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন নামাজরত অবস্থায় টুপি উঠানো, জামার হাতা নামানো, সিজদার স্থানের কঙ্কর সরানো, শরীর চুলকানো এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ করার জন্য এক হাত ব্যবহার করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই দু'হাত ব্যবহার করা যাবে না।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলা যায় যে, নামাজের মধ্যে রিং বেজে উঠলে দু'হাত ব্যবহার না করে এক হাতের সাহায্যে মোবাইল পকেটে রেখেই যে কোনো বাটন চেপে রিং বন্ধ করে দিবেন। আর পকেট থেকে মোবাইল বের করার প্রয়োজন হলেও একহাত দ্বারাই করবেন। মোবাইল বের করে পকেটের কাছে রেখে, না দেখে দ্রুত বন্ধ করে আবার পকেটে রেখে দিবেন। মনে রাখবেন, একহাত দ্বারা মোবাইল বন্ধ করতে গিয়ে মোবাইল পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করা যাবে না। কারণ দেখে দেখে বন্ধ করা অবস্থায় কেউ নামাজি ব্যক্তিকে দেখলে সে নামাজে আছে বলে মনে করবে না। ফলে তা আমলে কাসীরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় নামাজ ভেঙ্গে যাবে।

[খুলাসাতুল ফাতওয়া, খণ্ড : ১ পৃষ্ঠা : ১২৯ # ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১০৫ # শরহে নববী, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২০৫ # রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬২৪, ২৬৪, ২৬৫ # আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১১-১২ # ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৫৬৪ # শরহুল মুনিয়াহ, পৃষ্ঠা : ৪৪৩]


যে বই থেকে নেয়া হয়েছেঃ
• মোবাইল ফোন ব্যবহার : বৈধতার সীমা কতটুকু ?
• মুফীজুল ইসলাম আব্দুল আযীয
• সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান | 
courtesy: Islamhouse.com
 

Tuesday, August 6, 2013

সঠিক সময়ে ফজরের নামাজ আদায়ের কৌশল

সঠিক সময়ে ফজরের নামাজ আদায়ের কৌশল

 

লম্বা সময় ধরেই কিছুটা নিয়মিতভাবে ফজরের নামাজ কাজা আদায় করে আসছিলাম। মানে সঠিক সময়ে আদায় করতে পারছিলাম না। কারন আর কিছুই নয়। ঘুম থেকে উঠতে খুবই আলসেমি লাগতো অথবা ঘুম থেকে উঠতেই পারতাম না। কিন্তু সব সময়ই বুঝতাম যে কাজটা ভালো হচ্ছিলো না। হাজার হলেও ফরজ নামাজ,  সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করাটাও আরেকটা ফরজ।

কিন্তু আমি দেখছি যে, সঠিক সময় ফজর নামাজ আদায় করাটাও কঠিন কাজ নয়। জানিনা ব্লগে এভাবে লেখাটা উচিত হচ্ছে কিনা। কিন্তু যেহেতু আমি পারছি তাই ভাবলাম কেন না আরো অনেকেই জানুক। যদিও নামাজ আদায় করছি এই কথাটা ঢাকঢোল পিটিয়ে বলা অবশ্যই কোন উচিত কাজ নয়। তবে আমার নিয়ত সেটা নয় আদৌ, নিশ্চই আল্লাহ্‌ সকল গোপন বিষয়েও অবগত।
যাই হোক, যা করলে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করতে পারার সম্ভাবনা রয়েছে।
১) মনবল দৃঢ় করতে হবে, “আমি অবশ্যই ফজরের নামাজ আদায় করবো।”
২) দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া যাবে না। আমরা অনেক সময় জরুরী কাজ করতে করতে দেরি করে ফেলি আর হয়তো রাত ২টা ৩টায় ঘুমাতে যাই। এই অবস্থা হলে ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে যায়।
৩) এলার্ম সিষ্টেমে রিমাইন্ডার সেট করে দেখতে পারেন। তবে আমার মতে দেরি করে না ঘুমালে ফজরের সময় উঠাটা সহজ হয়। আমি দেখেছি দেরিতে ঘুমালে অনেক সময় এলার্মটাও শুনতে পাইনা।
৪) যদি ফজরে উঠতেই পারেন তবে দেখবেন কিছু হালকা পাতলা কাজ সবার আগেই করে শেষ করতে পারছেন। তারমানে, আগে যে কাজটি দিনের জন্য জমা থাকতো সেটা ভোর বেলাতেই শেষ হয়ে যাবে।
৫) প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে। নামাজ আদায় করার পর খুব ঘুম পাবে কিন্তু ঘুম আসবেও না, এমনটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে একটু ঘুমিয়ে নিলে মন্দ হয়না। কিন্তু দেখবেন এক সপ্তাহের মাঝেই ঠিক হয়ে যাবে।
৬) যদি এমন হয় যে, তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গিয়েও ঘুম আসছে না, তবে একটু শারিরিক পরিশ্রম করে নিতে পারেন। আমি দেখেছি, যদি একটু কঠিন পরিশ্রমের কাজ করি তবে ঘুমাতে গেলেই তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। অতো রাতে যদি পরিশ্রমের কাজ না পান তবে একটু exercise করে নিতে পারেন।
৭) যদি এলার্ম শুনতে পান তবে ‘আর একটু ঘুমিয়ে নেই’ এই ভেবে শুয়ে থাকবেন না। কারন আমি দেখেছি ‘আর একটু ঘুমিয়ে নেই’ করতে গিয়েই ফজর নামাজ মিস্‌ করে ফেলেছি।
৮) বাসার অন্য কেউ যদি নিয়মিত ফজরের নামাজ আদায় করে থাকে তবে তাকে বলতে পারেন ডেকে দেবার জন্য। এটা খুবি সহজ পদ্ধতি।
বাস্তব জীবন থেকে দেখলাম, ফজরের নামাজ পড়াটা মোটেও তেমন কঠিন কাজ নয়, শুধু প্রয়োজন ‘ফজরের নামাজ সময়মত পড়বোই পড়বো” – এই দৃঢ় ইচ্ছা মনে পোষণ করা। আর যখন কয়েকবার তা করা সম্ভব হবে তখন নামাজ আদায়কারী নিজেই অবাক হবেন এটা দেখে যে এতে দিনের কি পরিমান বরকত পাওয়া যাচ্ছে! একদিনে অনেক কাজই করা সম্ভব যা সময়ের অভাবে আগে করতে পারিনি! ”দিনগুলো কিভাবে যেন চলে যাচ্ছে, একদম সময়ের বরকত পাচ্ছিনা” – এই কথা তখন হরহামেশা আর দুঃখ করে বলতে হবেনা! শুধু তাইনা, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে তাড়াতাড়ি উঠার অভ্যাসটা শরীরকে সারাদিন চাঙ্গা রাখে, অন্তত আমার ক্ষেত্রে আমি দেখেছি,আমি খুব চাঙ্গা ফীল করেছি। সারাদিন ক্লান্তিমুক্ত মনে হয়েছে, কাজেকর্মে আগের চেয়ে ভাল মনোযোগ দিতে পারছি। অন্যান্য কাজগুলোও সময়মত সম্পন্ন করতে পারছি, অর্থাৎ সারাদিনটাই ভাল যাচ্ছে!
এখন প্রশ্ন হল, এই দৃঢ় ইচ্ছা টা তৈরি করব কিভাবে?
যে একবার কাজটা practically করতে পেরেছে, সে এর উপকারিতা দেখে নিজ থেকেই উঠার ইচ্ছা ফীল করবে। আর যিনি কখনো তা করেননি তার জন্য আমার কিছু suggestion হল:
(ক) একবার ফীল করুন দেশে এমন বিদ্যুৎ সঙ্কট চলছে আর আপনি অযথা রাত জেগে বিদ্যুৎ অপচয় করছেন! অথচ রাত জেগে যে কাজ আপনি করছেন তা হয়তো ভোরে উঠে সূর্যের আলোতেও করতে পারতেন, যা চোখের জন্যও ভালো।
(খ) একবার চিন্তা করুন, আমরা যদি অযথা বিদ্যুৎ অপচয় করি, তাহলে তার জন্য স্রষ্টার কাছে জবাব্দিহিও করতে হবে ।
(গ) চিন্তা করুন, ফজর এর নামাজ অন্য নামাজ গুলোর মতই ফরজ এবং তা যথা সময়ে আদায় করাটাও ফরজ। কাজেই এতে গাফিলতির জন্য মারাত্মক পরিণতি অপেক্ষা করছে।
(ঘ) চিন্তা করুন আপনি আপনার বাচ্চাদের, কিম্বা ছোট ভাইবোনদের শিখাচ্ছেন – early to bed and early to rise- is the way to be healthy, wealthy and wise– অথচ নিজেই early উঠছেন না, early ঘুমাতে যাচ্ছেন না -এটাকি ঠিক হচ্ছে? আমার ক্ষেত্রে এই চিন্তাটাও আমাকে ভোরে উঠতে এবং ফজর এর নামাজ পড়তে সহায়তা করেছে।
(ঙ) চিন্তা করুন উন্নত বিশ্বের লোকেরা খুব ভোর এ ঘুম থেকে উঠে আর খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরে আর আমরা যারা অনুন্নত বিশ্বের নাগরিক তারা দেরীতে উঠছি আর দেরীতে ঘুমাতে যাচ্ছি — তার মানে এই অভ্যাস আমাদের পিছিয়ে পরার একটা কারন নয় কি?
আরো একটা বিষয় আছে। সারাদিনের বাতাসের গন্ধ আর ফজরের সময়ের বাতাসের গন্ধের মাঝে রয়েছে অনেক পার্থক্য। এমনকি সকাল সাতটা-আটটার বাতাসের গন্ধ আর ফজরের সময়ের গন্ধের মাঝেও আছে বেশ পার্থক্য। সেই অভিজ্ঞতা তো আর ব্লগ পড়ে বা শুনেশুনে হবার নয়, তাই নয় কি? আর বলা যায়না, সারা দিন যান্ত্রীকতার ভীড়ে হয়তো শুনতে পাইনা যে শতশত পাখিরা কিভাবে ডাকাডাকি করে।
তবে হ্যা, উপরে যতো কিছু নিয়ে আলাপ করলাম, হয়তো এতো কিছু আলোচনার প্রয়োজনী নাই শুধু এই কথা দিয়েই যে, আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য ফজরের নামাজও ফরজ করেছেন সুতরাং তা সঠিক সময়ে আদায় করতেই হবে; সকাল সকাল কাজকর্ম শেষ হোক বা না হোক, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হোক না না হোক, পাখির ডাক শুনতে পাই বা না পাই। বন্ধুরা আপনারা কে কিভাবে সঠিক সময়ে ফজরের নামাজ আদায়ে সক্ষম হলেন মন্তব্য আকারে জানাতে ভুলবেন না প্লীজ্‌।
- লেখাটি শিবলী ও সামিনা মিলে লিখেছেন।